মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

ভাষা ও সংস্কৃতি

 নরসিংদী জেলাধীন বেলাব উপজেলা বিন্নাবাইদ, পাটুলী, বাজনাব, বেলাব, আমলাব, চরউজিলাব, নারায়ণপুরও সল্লাবাদ এই ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। উপজেলার ভূ-প্রকৃতি ও ভৌগলিক অবস্থান এই উপজেলার মানুষের ভাষা ও সংস্কৃতি গঠনে ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের নরসিংদী জেলায় অবস্থিত এই উপজেলাকে ঘিরে রয়েছে দক্ষিণে রায়পুরা, নরসিংদী সদর ও শিবপুর উপজেলা, পূর্বে কুলিয়ারচর উপজেলা, উত্তরে কটিয়াদিউপজেলা, পশ্চিমে মনোহরদী উপজেলা। এখানে ভাষার মূল বৈশিষ্ট্য বাংলাদেশের অন্যান্য উপজেলার মতই, তবুও কিছুটা বৈচিত্র্য খুঁজে পাওয়া যায়। বেলাব উপজেলার আঞ্চলিক ভাষার সাথে ময়মনসিংহের আঞ্চলিক ভাষার অনেকটা মিল খুজেঁ পাওয়া যায়।

 বিশেষজ্ঞরা মনে করেন শীতলক্ষা, আড়িয়াল খা, পাহাড়িয়া ও ব্রহ্মপুত্র নদীর তীর বিধৌত প্রাচীন সভ্যতা ও ঐতিহ্য লালিত এবংআমলাব ইউনিয়নের লালমাটির উচু নিচু, সমতল, ছোট বড় টিলা, টেক ও পাহাড়ের নয়নাভিরাম অরণ্য আবরণে আবৃতে গড়া বেলাব উপজেলার মানুষের খাদ্যাভাস, আচার-আচরণ ভাষা ও সংস্কৃতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। এ এলাকায় খড়গ রাজাদের শাসন আমল ছিল ৬০০-৭০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত। খড়গ রাজাদের ৫ জন রাজা ছিলেন।

সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে বেলাব উপজেলার অবদানও অনস্বীকার্য।উপজেলার‘জয়মঙ্গল’ নামে পাহাড়ী গ্রামে আবিস্কৃত হয়েছে গুপ্তযুগের স্বর্ণমুদ্রা।আশ্রাফপুরে আবিস্কৃত হয়েছে সপ্তম শতাব্দীর মহারাজাদেব খড়গের তাম্রলিপি এবং অষ্টধাতুর নির্মিত বৌদ্ধ নিবেদন স্ত্তপ।এই আশ্রাফপুরেই আবিস্কৃত হয়েছে গৌড়ের স্বাধীন নরপতি আলাউদ্দিন হোসেন শাহেরপুত্র সুলতান নাসির উদ্দিন নসরৎ শাহের রাজত্বকালে নির্মিত একটি অতি প্রাচীনমসজিদ।

মহান মুক্তিযুদ্ধেও গৌরবময় ইতিহাস সৃষ্টিতেও নরসিংদীর ঐতিহ্য রয়েছে। যাঁর বুকের তাজা রক্ত মুক্তি পাগল জনতার মিছিলকে বেগবান করে স্বাধীনতা সংগ্রামের দিকে এগিয়ে নিয়েছিল সেই উনসত্তরের গণ আন্দোলনের শহীদ ‘আসাদ’।

লটকন,কাঁকরোল,কাঁঠাল, শশা, সিম,বেগুন,জিঙ্গা, ধান ও লাউ উৎপাদনে উল্লে­খযোগ্য বেলাব বাংলাদেশের একটি অন্যতম কৃষি সমৃদ্ধ উপজেলা হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে। বেলাব উপজেলা থেকে লটকন, লেবু ও বিভিন্ন সবজি বিদেশে সুনামের সহিত রপ্তানী করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা হচ্ছে।সেই সাথে পোল্ট্রি ও বেত শিল্পের জন্যও বিখ্যাত।

ছবি


সংযুক্তি